মহান আল্লাহতায়ালা এর বাণী অর্থাৎ কুরআনের আয়াতগুলোর মধ্যেই রয়েছে মানুষের জন্য কল্যাণ ও পরিত্রান। ইসলাম ধর্মে প্রতিটি মুসলমানের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে আল্লাহ কুরআন কে নাজিল করেছেন। যার প্রতিটি আয়াত গভীর তাৎপর্য পূর্ণ ও নির্দেশনামূলক। এই পবিত্র কুরআনে রয়েছে মুমিনদের জন্য শিফা। তাই মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা বনী-ইসরাঈলের ৮২ নং আয়াতে বলেনঃ
وَنُنَزِّلُ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ مَا ہُوَ شِفَآءٌ وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۙ وَلَا یَزِیۡدُ الظّٰلِمِیۡنَ اِلَّا خَسَارًا
অর্থ্যাৎঃ আমি নাযিল করছি এমন কুরআন, যা মুমিনদের পক্ষে শেফা ও রহমত। তবে জালেমদের ক্ষেত্রে এর দ্বারা ক্ষতি ছাড়া অন্য কিছু বৃদ্ধি হয় না।
আয়াতুল হারক কি।
আয়াতুল হারক হচ্ছে কুরআনে বর্ণিত সেই সকল আয়াত সমূহ যার যেসকল আয়াতে জাহান্নাম, আগুন, আজাব-গজব ইত্যাদি সংক্রান্ত আলোচনা এসেছে। আয়াতুল হারক সাধারণত জিনকে যাদু ইত্যাদি শাস্তি দেয়ার নিয়তে অথবা পুড়িয়ে ফেলার জন্য দোয়া করে এই আয়াতগুলো পাঠ করা হয়।
আয়াতুল হারক এর বৈশিষ্ট্য
আয়াতুল হারক হচ্ছে কুরআনে বর্ণিত জাহান্নাম ও আযাব সংক্রান্ত আয়াতসমূহ। যার দারা কঠিন থেকে কঠিনতম জিন যাদুর চিকিৎসা করা হয়। এইগুলা খুবই পাওয়ারফুল আয়াত। এর সামনে জিন যাদু কোনো কিছুই টিকতে পারেনা। সাধারণত আমরা যখন কমন রুকইয়াহ এর আয়াত গুলো পাঠ করে জিন শয়তান কে কাবু করতে না পারি। তখন আমরা জীন, যাদু , নজরের সকল কিছু পুড়িয়ে ফেলার নিয়তে আয়াত গুলো পাঠ করতে থাকি।
এছাড়া হয়তো আরও বিবিধ ব্যবহার রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ভাল জানেন। পড়ার সময় আপনি নিয়ত করবেন কেন পড়ছেন, এরপর তিলাওয়াত শুরু করবেন। তাহলেই উপকার হবে ইনশাআল্লাহ।
আয়াতুল হারক এর তালিকা
১। সুরা বাকারা। আয়াত নং ২৫৫, ২৬৬
২। সুরা আলে ইমরান। আয়াত নং ১০, ১১৬, ১৮১
৩। সুরা নিসা। আয়াত নং ৫৬
৪। সুরা মায়িদাহ। আয়াত নং ৩৭
৫। সুরা আনআম। আয়াত নং ১২৮।
৬। সুরা আনফাল। আয়াত নং ৫০
৭। সুরা ইব্রহিম। আয়াত নং ১৫,১৬, ১৭, ৪৯, ৫০।
৮। সুরা হিজর। আয়াত নং ১৬, ১৭, ১৮।
৯। সুরা কাহাফ। আয়াত নং ২৯।
১০। সুরা মারইয়াম। আয়াত নং ৪
১১। সুরা ত্বহা। আয়াত নং ৯৭।
১২। সুরা আম্বিয়া। আয়াত নং ৩৯, ৬৮, ৯৮।
১৩। সুরা হাজ্ব। আয়াত নং ৯, ১৯, ২০, ২১, ২২।
১৪। সুরা ম’মিনুন। আয়াত নং ১০৩, ১০৪
১৫। সুরা নামল। আয়াত নং ৯০।
১৬। সুরা আনকাবুত। আয়াত নং ২৪।
১৭। সুরা আহযাব। আয়াত নং ৬৬।
১৮। সুরা ফাতির। আয়াত নং ৩৬, ৩৭।
১৯। সুরা সফফাত। আয়াত নং ৭, ৮, ৯, ১০।
২০। সুরা যুমার। আয়াত নং ১৬, ১৯।
২১। সুরা মু’মিন। আয়াত নং ৬, ৭২।
২২। সুরা হামীম সিজদাহ। আয়াত নং ৪০
২৩। সুরা দোখান। আয়াত নং ৪৩ থেকে ৫০।
২৪। সুরা মুহাম্মাদ। আয়াত নং ১৫।
২৫। সুরা নাজম। আয়াত নং ১
২৬। সুরা ক্বামার। আয়াত নং ৪৮।
২৭। সুরা আররাহমান। আয়াত নং ৩১ থেকে ৩৫
২৮। সুরা ওয়াক্বিয়া। আয়াত নং ৫১ থেকে ৫৫
২৯। সুরা মূলক। আয়াত নং ৫ থেকে ৯।
৩০। সুরা জ্বিন। আয়াত নং ৮,৯,১৪,১৫।
৩১। সুরা বুরুজ। আয়াত নং ১০।
৩২। সুরা ত্বরিক। আয়াত নং ১ থেকে ৪
৩৩। সুরা লাইল। আয়াত নং ১৪, ১৫, ১৬।
৩৪। সুরা আল ক্বরিয়াহ। আয়াত নং ৮ থেকে ১১।
৩৫। সুরা হুমাযাহ। আয়াত নং ৪ থেকে ৯
আয়াতুল হারক এর বাংলা উচ্চারণ অর্থ সহঃ
১) সুরা বাকারা ( আয়াত নং ২৫৫) আয়তুল কুরসী।
اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلۡحَیُّ الۡقَیُّوۡمُ ۬ۚ لَا تَاۡخُذُهٗ سِنَۃٌ وَّ لَا نَوۡمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یَشۡفَعُ عِنۡدَهٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِهٖ ؕ یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ مَا خَلۡفَهُمۡ ۚ وَ لَا یُحِیۡطُوۡنَ بِشَیۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرۡسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ ۚ وَ لَا یَـُٔوۡدُهٗ حِفۡظُهُمَا ۚ وَ هُوَ الۡعَلِیُّ الۡعَظِیۡمُ ﴿۲۵۵﴾
অর্থঃ আল্লাহ! তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি স্বাধীন ও নিত্য নতুন ধারক, সব কিছুর ধারক। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করেনা। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর। কে আছে এমন, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে? সম্মুখের অথবা পশ্চাতের সবই তিনি অবগত আছেন। একমাত্র তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত, তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারেনা। তাঁর আসন আসমান ও যমীন ব্যাপী হয়ে আছে এবং এতদুভয়ের সংরক্ষণে তাঁকে বিব্রত হতে হয়না। তিনিই সর্বোচ্চ, মহীয়ান। (আয়াতুল কুরসী) আল-বায়ান
বাংলা উচ্চারণঃ আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম। লা তা খুজুহু সিনাতু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস সামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশ ফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজনিহি, ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম মিন ইল মিহি ইল্লা বিমা শা আ, ওয়াসিয়া কুরসি ইউহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলি ইয়ুল আজিম।
২) সুরা বাকারা আয়াত নং ২৬৬
اَیَوَدُّ اَحَدُكُمۡ اَنۡ تَكُوۡنَ لَهٗ جَنَّۃٌ مِّنۡ نَّخِیۡلٍ وَّ اَعۡنَابٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ ۙ لَهٗ فِیۡهَا مِنۡ كُلِّ الثَّمَرٰتِ ۙ وَ اَصَابَهُ الۡكِبَرُ وَ لَهٗ ذُرِّیَّۃٌ ضُعَفَآءُ ۪ۖ فَاَصَابَهَاۤ اِعۡصَارٌ فِیۡهِ نَارٌ فَاحۡتَرَقَتۡ ؕ كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمُ الۡاٰیٰتِ لَعَلَّكُمۡ تَتَفَكَّرُوۡنَ ﴿۲۶۶
অর্থঃ তোমাদের কেউ কি কামনা করে, তার জন্য আঙ্গুর ও খেজুরের এমন একটি বাগান থাকবে, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে নদ-নদী, সেখানে তার জন্য থাকবে সব ধরনের ফল-ফলাদি, আর বার্ধক্য তাকে আক্রান্ত করবে এবং তার জন্য থাকবে দুর্বল সন্তান-সন্ততি। অতঃপর বাগানটিতে আঘাত হানল ঘূর্ণিঝড়, যাতে রয়েছে আগুন, ফলে সেটি জ্বলে গেল? এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা কর।
উচ্চারণঃ আইয়াওয়াদ্দুআহাদুকুম আন তাকূনা লাহু জান্নাতুম মিন নাখীলিওঁ ওয়া আ‘না-বিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু লাহু ফীহা-মিন কুল্লিছছামারা-তি ওয়া আসা-বাহুল কিবারু ওয়ালাহু যুররিইইয়াতুন দু‘আফাউ ফাআসা-বাহা ই‘সা-রুন ফীহি না-রুন ফাহতারাকাত কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুমুল আ-য়া-তি ল‘আল্লাকুম তাতাফাক্কারূন।
৩) সুরা আলে ইমরান। আয়াত নং ১০, ১১৬, ১৮১
اِنَّ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا لَنۡ تُغۡنِیَ عَنۡهُمۡ اَمۡوَالُهُمۡ وَ لَاۤ اَوۡلَادُهُمۡ مِّنَ اللّٰهِ شَیۡئًا ؕ وَ اُولٰٓئِكَ هُمۡ وَقُوۡدُ النَّارِ ﴿ۙ۱۰
উচ্চারণঃ ইন্নাল্লাযীনা কাফারু লান তুগনিয়া ‘আনহুম আমওয়া-লুহুম ওয়ালা আওলা-দুহুম মিনাল্লা-হি শাইআওঁ ওয়া উলাইকাহুম ওয়াকূদুন্না-র।
অর্থঃ নিশ্চয় যারা কুফরী করে, তাদের মাল-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর আযাব থেকে কখনও কোন কাজে আসবে না এবং তারাই আগুনের জ্বালানি।
اِنَّ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا لَنۡ تُغۡنِیَ عَنۡهُمۡ اَمۡوَالُهُمۡ وَ لَاۤ اَوۡلَادُهُمۡ مِّنَ اللّٰهِ شَیۡـًٔا ؕ وَ اُولٰٓئِكَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ هُمۡ فِیۡهَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۱۱۶
উচ্চারণঃ ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ লান তুগনিয়া ‘আনহুম আমওয়া-লুহুম ওয়ালা-আওলা-দুহুম মিনাল্লা-হি শাইআওঁ ওয়া উলাইকা আসহা-বুন্না-রি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।
অর্থঃ নিশ্চয় যারা কুফরী করে, আল্লাহর বিপক্ষে তাদের ধন-সম্পদ না তাদের কোন কাজে আসবে, আর না তাদের সন্তানাদি। আর তারা আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।
لَقَدۡ سَمِعَ اللّٰهُ قَوۡلَ الَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اِنَّ اللّٰهَ فَقِیۡرٌ وَّ نَحۡنُ اَغۡنِیَآءُ ۘ سَنَكۡتُبُ مَا قَالُوۡا وَ قَتۡلَهُمُ الۡاَنۡۢبِیَآءَ بِغَیۡرِ حَقٍّ ۙ وَّ نَقُوۡلُ ذُوۡقُوۡا عَذَابَ الۡحَرِیۡقِ ﴿۱۸۱
উচ্চারণঃ লাকাদ ছামি‘আল্লা-হু কাওলাল্লাযীনা কালূইন্নাল্লা-হা ফাকীরুওঁ ওয়ানাহনু আগনিয়াউ । ছানাকতুবুমা-কা-লূওয়া কাতলাহুমুল আম্বিয়াআ বিগাইরি হাক্কিওঁ ওয়া নাকূলুযূকূ‘আযা-বাল হারীক।
অর্থঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন, যারা বলেছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ দরিদ্র এবং আমরা ধনী’। অচিরেই আমি লিখে রাখব তারা যা বলেছে এবং নবীদেরকে তাদের অন্যায়ভাবে হত্যার বিষয়টিও এবং আমি বলব, ‘তোমরা উত্তপ্ত আযাব আস্বাদন কর’।
৪। সুরা মায়িদাহ। আয়াত নং ৩৭
یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یَّخۡرُجُوۡا مِنَ النَّارِ وَمَا ہُمۡ بِخٰرِجِیۡنَ مِنۡہَا ۫ وَلَہُمۡ عَذَابٌ مُّقِیۡمٌ
উচ্চারণঃ ইউরীদূ না আইঁ ইয়াখরুজুমিনান্না-রি ওয়ামা-হুম বিখা-রিজীনা মিনহা- ওয়া লাহুম ‘আযা-বুম মুকীম।
অর্থঃ তারা আগুন থেকে বের হতে চাইবে, অথচ তারা তা থেকে বের হতে পারবে না। তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি।
৫। সুরা আনআম। আয়াত নং ১২৮।
وَیَوۡمَ یَحۡشُرُہُمۡ جَمِیۡعًا ۚ یٰمَعۡشَرَ الۡجِنِّ قَدِ اسۡتَکۡثَرۡتُمۡ مِّنَ الۡاِنۡسِ ۚ وَقَالَ اَوۡلِیٰٓؤُہُمۡ مِّنَ الۡاِنۡسِ رَبَّنَا اسۡتَمۡتَعَ بَعۡضُنَا بِبَعۡضٍ وَّبَلَغۡنَاۤ اَجَلَنَا الَّذِیۡۤ اَجَّلۡتَ لَنَا ؕ قَالَ النَّارُ مَثۡوٰىکُمۡ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰہُ ؕ اِنَّ رَبَّکَ حَکِیۡمٌ عَلِیۡمٌ
উচ্চারণঃ
অর্থঃ (সেই দিনের কথা মনে রেখ) যে দিন আল্লাহ তাদের সকলকে একত্র করবেন (এবং দুষ্ট জিনদেরকে বলবেন), হে জিন সম্প্রদায়! তোমরা বিপুল সংখ্যক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছ। মানুষের মধ্যে যারা তাদের বন্ধু, তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা একে অন্যের দ্বারা আনন্দ উপভোগ করেছি এবং এখন আমরা আমাদের সেই সময়ে উপনীত হয়েছি, যা আপনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। আল্লাহ বলবেন, (এখন) আগুনই তোমাদের ঠিকানা, যাতে তোমরা সর্বদা থাকবে যদি না আল্লাহ অন্য রকম ইচ্ছা করেন। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হিকমতওয়ালা, সর্বজ্ঞ।
৬। সুরা আনফাল। আয়াত নং ৫০
وَلَوۡ تَرٰۤی اِذۡ یَتَوَفَّی الَّذِیۡنَ کَفَرُوا ۙ الۡمَلٰٓئِکَۃُ یَضۡرِبُوۡنَ وُجُوۡہَہُمۡ وَاَدۡبَارَہُمۡ ۚ وَذُوۡقُوۡا عَذَابَ الۡحَرِیۡقِ
উচ্চারণঃ
অর্থঃ তুমি যদি দেখতে, ফিরিশতাগণ কাফেরদের চেহারা ও পিঠে আঘাত করে করে তাদের প্রাণ হরণ করছিল (আর বলছিল), এবার তোমরা জ্বলার মজাও ভোগ কর (তাহলে চমৎকার দৃশ্য দেখতে পেতে)।
৭। সুরা ইব্রহিম। আয়াত নং ১৫,১৬, ১৭, ৪৯, ৫০।
وَ اسۡتَفۡتَحُوۡا وَ خَابَ كُلُّ جَبَّارٍ عَنِیۡدٍ
উচ্চারণঃ
অর্থঃ আর তারা বিজয় কামনা করল, আর ব্যর্থ হল সকল স্বেচ্ছাচারী, হঠকারী।
مِّنۡ وَّرَآئِہٖ جَہَنَّمُ وَیُسۡقٰی مِنۡ مَّآءٍ صَدِیۡدٍ
উচ্চারণঃ
অর্থঃ তার সামনে রয়েছে জাহান্নাম এবং (সেখানে) তাকে পান করানো হবে গলিত পুঁজ।
یَّتَجَرَّعُہٗ وَلَا یَکَادُ یُسِیۡغُہٗ وَیَاۡتِیۡہِ الۡمَوۡتُ مِنۡ کُلِّ مَکَانٍ وَّمَا ہُوَ بِمَیِّتٍ ؕ وَمِنۡ وَّرَآئِہٖ عَذَابٌ غَلِیۡظٌ
উচ্চারণঃ
অর্থঃ সে তা ঢোক গিলে গিলে পান করবে, মনে হবে যেন সে তা গলা থেকে নামাতে পারছে না। মৃত্যু তার দিকে চারদিক থেকে এসে পড়বে, কিন্তু সে মরবে না এবং তার সামনে (সর্বদা) থাকবে এক কঠিন শাস্তি।
وَتَـرَی الۡمُجۡرِمِیۡنَ یَوۡمَئِذٍ مُّقَرَّنِیۡنَ فِی الۡاَصۡفَادِ
উচ্চারণঃ
অর্থঃ এবং সে দিন তুমি অপরাধীদেরকে শিকলে কষে বাঁধা অবস্থায় দেখবে।
سَرَابِیۡلُہُمۡ مِّنۡ قَطِرَانٍ وَّتَغۡشٰی وُجُوۡہَہُمُ النَّارُ
উচ্চারণঃ
অর্থঃ তাদের জামা হবে আলকাতরার এবং আগুন তাদের মুখমণ্ডল আচ্ছন্ন করবে-
আয়াতুল হারক এর উপকারিতা
১. জিন ও শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষা:
আয়াতুল হারক নিয়মিত পড়লে জিনের আসর, কু-প্রভাব ও শয়তানী চিন্তা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
২. যাদু (সিহর) থেকে মুক্তি:
বিভিন্ন ধরণের যাদু যেমন বিবাহ বন্ধের যাদু, অসুস্থতার যাদু, ঘরবাড়ি ভাঙ্গার যাদু ইত্যাদির প্রভাব দূর করতে আয়াতুল হারক খুব কার্যকর।
৩. জিনকে কঠিন শাস্তি দেওয়াঃ
আয়াতুল হারক এর আয়াত গুলো পাঠ করার মাধ্যমে জিন কে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেওয়া যায়। আয়াত হারক পাঠ করার সময় জিন রোগীর শরীর থেকে যেতে না চাইলে, আল্লাহর পবিত্রবানীর শক্তি জিন জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
৩. নজর লাগা থেকে মুক্তি:
অতিরিক্ত প্রশংসা, হিংসা বা হঠাৎ কোনো ক্ষতি যদি নজর লাগার কারণে হয়, তাহলে আয়াতুল হারক পাঠ করলে তা থেকে আরোগ্য পাওয়া সম্ভব।
৪. আত্মিক ও মানসিক শান্তি:
আয়াতুল হারক পাঠ বা শোনার মাধ্যমে হৃদয়ে প্রশান্তি আসে, দুশ্চিন্তা, হতাশা, বিষণ্নতা কমে যায়।
৫. অসুস্থতা নিরাময়ে সহায়ক:
শরীরিক অসুস্থতা যেমন মাথাব্যথা, বুকে চাপ, ঘুমের সমস্যা ইত্যাদি যেগুলোর পেছনে আধ্যাত্মিক কারণ থাকতে পারে, আয়াতুল হারক তা নিরাময়ে সাহায্য করে।
৬. ঘুমের সমস্যা ও দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি:
আয়াতুল হারক নিয়মিত পাঠ করলে ভালো ঘুম হয় এবং দুঃস্বপ্ন, ভয় বা অস্বস্তি কমে যায়।
৭. ইমান ও তাকওয়া বৃদ্ধি পায়:
আয়াতুল হারক পাঠ করার সময় কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও দোআ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি ভরসা ও তাকওয়া বৃদ্ধি পায়।